সড়কের সংস্কারকাজ ফেলে রাখায় সড়ক অবরোধ
· Prothom Alo

বরগুনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সড়কের সংস্কারকাজ ফেলে রাখায় সড়কে বাঁশ ফেলে অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে সড়কের দুই পাশে আটকে পড়ে ছোট-বড় অনেক যানবাহন ও যাত্রীরা। এই কর্মসূচি থেকে দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বরগুনা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের ক্রোক নামক এলাকায় বাঁশ দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েন এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। পরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক মাসের মধ্যে সড়ক সংস্কার সম্পন্নের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাড়ে ২২ কিলোমিটার ওই সড়কের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে সংস্কারাধীন। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একেবারেই কাজ বন্ধ রয়েছে ছয়–সাত কিলোমিটার সড়কের। ফলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারী ও চলাচলকারী শত শত যানবাহনকে। সড়কের অধিকাংশ জায়গা ধুলায় সয়লাব।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কের প্রায় ২৩ কিলোমিটার সংস্কারকাজে মোট ৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৯টি প্যাকেজে ভাগ করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১ বছর মেয়াদে ৮ প্যাকেজের কাজ শুরু করে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন এবং একটি প্যাকেজের কাজ নেয় জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের প্রতিনিধি হয়ে ওই আটটি প্যাকেজের কাজ শুরু করেন বশির নামে একজন স্থানীয় ঠিকাদার। কাজ শুরুর পর দুটি প্যাকেজ সম্পন্ন করে একটি মামলায় বশির গ্রেপ্তার হলে ছয়–সাত কিলোমিটার সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
বরগুনা-নিশানবাড়িয়া সড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা আমতলী এলাকার বাসিন্দা মো. খলিলুর রহমান বলেন, এভাবে সড়কের কাজ ফেলে রাখা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এক বছর ধরে এই সড়কের পাশে থাকা প্রত্যেকই সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। আশপাশের সবজিখেত পুকুর বাড়িঘর সব ধুলায় নষ্ট হয়ে গেছে।
সুলতান নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘আমি সড়ক অবরোধের পক্ষে। ১০ বছর ধরে এ সড়কে গাড়ি চালাই। কিন্তু কখনোই দেখিনি পুরো সড়কটি ভালোভাবে মেরামত করা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙাচোরা খানাখন্দ থেকেই যায়।’
বরগুনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোশারেফ হোসেন বলেন, রাস্তা অবরোধের মূল কারণ এখানকার বাসিন্দারা ধুলাবালুতে অতিষ্ঠ। যখন একটি গাড়ি যায়, তখন তার পাশ দিয়ে হাঁটা তো দূরের কথা, কেউ দাঁড়াতেও পারে না। আশপাশের যত বাড়িঘর আছে, তা ধুলাবালুতে হলুদ রং হয়ে আছে। ঘরের মধ্যে খাবার খেলেও এই ধুলাবালু মিশ্রিত খাবার খেতে হয়। এ ছাড়া বর্তমানে এই সড়কের পাশের বাসিন্দাদের অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, সড়কটির বর্তমানে কার্পেটিং করার কাজ বাকি আছে। তবে এ সময় ঠিকাদার গ্রেপ্তার হওয়ায় কাজটি বন্ধ আছে। আর এ কারণেই জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। সংশ্লিষ্ট মূল ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তারা আগামী শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করা যায়, কাজ শুরুর এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই সড়ক সংস্কার সম্পন্ন হবে।