চুয়াডাঙ্গায় বিকেলে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত বিক্রি, ভোক্তারা ভোগান্তিতে

· Prothom Alo

রমজানে নিত্যপণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টিসিবি চুয়াডাঙ্গা জেলায় ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পণ্য বিক্রিতে সময়সূচি মেনে না চলায় ভোক্তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে।

সকাল ১০টা থেকে এসব পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও বুধবার জেলার পাঁচটি পয়েন্টের সব কটিতে বিকেল পাঁচটার পর বিক্রি শুরু হয়। বিক্রিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, টিসিবি থেকে পণ্য পেতে বিলম্ব এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চারটি পণ্য প্যাকেটভর্তি করতে সময় লাগায় তা ঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারেননি।

Visit fish-roadgame.com for more information.

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসে জেলাজুড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন ৫টি পয়েন্টে ট্রাকে করে ৪০০ জন ভোক্তার কাছে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৩৭ জন ডিলারের মাধ্যমে জেলার সর্বমোট ১১১টি পয়েন্টে ৪৪ হাজার ৪০০ জনের কাছে এসব পণ্য বিক্রির লক্ষ্যে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ভোক্তাদের কাছে প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা, খেজুর ১৬০ টাকা এবং প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ৫৯০ টাকার বিপরীতে ভোক্তাদের এক কেজি চিনি, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি ছোলা, ৫০০ গ্রাম খেজুর ও দুই লিটার ভোজ্য তেল দেওয়া হয়।

বুধবার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পাঁচটি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয় বিকেল পাঁচটার পর। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

সকাল ১০টায় ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও সদর উপজেলার আলুকদিয়ায় বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে বিক্রি শুরু হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।

বেলা সাড়ে তিনটায় আলুকদিয়া হাটে অপেক্ষমাণ নারী-পুরুষের মধ্যে অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। যাঁদের কেউ কেউ বেলা দুইটায়, আবার কেউ কেউ তারও আগে এসে বসে আছেন। আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলাতদিয়াড় বঙ্গজপাড়ার বাসিন্দা তহমিনা বেগম বলেন, ‘দুপোরে ভাত রাইন্দে না খাইয়েই চলে আইচি এসপ কিনতি। ককন যে কিনতি পাইরবো, আর ককন যে বাড়িতি যাব আল্লাহ জানে।’ একই এলাকার রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘কোম দামে চিনি, ছুলা, তেল, খেজুর, ডাল কিনতি তিন ঘণ্টা আগে আইচি। রুজার দিনি অ্যারাম কষ্ট হলি কিনতি আসপো নানে।’

ডিলার ও ট্যাগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে কিছু জটিলতার তথ্য পাওয়া গেছে। আলুকদিয়া ইউনিয়নের ডিলারের প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে তিনি টিসিবির গুদাম থেকে পণ্য বুঝে পেয়েছেন। সেখান থেকে নিজের গুদামে নিয়ে আসতে এবং তেল ছাড়া বাকি চারটি পণ্য মেপে ওজন করে প্যাকেট করতে এই দেরি হয়েছে। যে কারণে বিক্রি করতেও বিলম্ব হয়েছে। মনোয়ার আশঙ্কা করেন, ‘রোজার মাসে এমন হলে অসন্তোষ দেখা দেবে এবং তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।’

মোমিনপুর ইউনিয়নের ডিলার ইসমাইল হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে তিনি সদর খাদ্যগুদামে টিসিবির মাসিক খাদ্যপণ্য নিতে গিয়ে ট্রাক সেলের বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ‘টিসিবির গুদাম থেকে পণ্য বুঝে পাতি দুপুর দুটো পার হয়ে যায়। এরপর সেগুলো বিক্রয় উপযোগী করতে দেরির কারণে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বিক্রি শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত।’

এই ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক হাসান মিয়া জানান, বিকেল চারটায় ডিলারের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তাঁকে খাদ্য বিতরণের সময় উপস্থিত থাকতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বুধবার থেকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এ দিন রাত পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে পত্র পাইনি। ডিলারের কাছে জানতে পেরে যা যা করার করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিসিবির গুদাম থেকে ডিলারদের পণ্য বুঝে পেতে বিলম্ব হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হবে।’

Read full story at source